skip to Main Content
কমিউনিটি ও নেটওয়ার্কিং কার্যক্রম শক্তিশালী করার মাধ্যমে শিশু পাচার প্রতিরোধ প্রকল্প – ২য় খন্ড

কমিউনিটি ও নেটওয়ার্কিং কার্যক্রম শক্তিশালী করার মাধ্যমে শিশু পাচার প্রতিরোধ প্রকল্প – ২য় খন্ড

সারা পৃথিবীতেই মানব পাচার একটি বড় সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এশিয়ার অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম না। মানব ও শিশু পাচার মানুষ নিয়ে বাণিজ্যের এমন একটি রূপ যার উদ্দেশ্য থাকে সাধারণত যৌন দাসত্ব, জোরপূর্বক শ্রম, বাধ্যতামূলক শোষণমূলক শ্রম ও অঙ্গ পাচারের মত কার্যকলাপের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন। এটি ব্যক্তি অধিকারহরণ করে ও তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাধীনতা হরণ করে। পাচারের শিকার ব্যক্তিরা সাধারণত মধ্যস্বত্তভোগীদের হাতে বন্দী থাকে ও তাদের দ্বারা শোষিত হয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকার মানবতাবিরোধী এই অপরাধের প্রতিরোধ ও প্রতিকারে সচেষ্ট। বাংলাদেশ প্রধানত মানব পাচারের উৎস দেশ হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বাংলাদেশ ট্রানজিট ও গন্তব্য-ভূমি হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। ইদানিং নারী ও শিশুর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ এবং আন্তঃসীমান্ত উভয় ক্ষেত্রে “শ্রম- শোষণ” এর উদ্দেশ্যে পুরুষের পাচারও বেড়ে গেছে। উল্যেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি পুরুষ চাকুরির মিথ্যা আশ্বাসে বিদেশে পাড়ি জমায় এবং জবরদস্তি শ্রম বা ঋণ-দাস এর মত ভয়াবহ শোষণের অমানবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। সাধারণভাবে প্রান্তিক জনগণের প্রতি, বিশেষত নারীর প্রতি অবিরাম বৈষম্য ও বঞ্চনা এবং জীবন-জীবিকার নিরাপত্তাহীনতা ওতপ্রোতভাবে পাচার সমস্যার সাথে জড়িত। “পাচারের শিকার ব্যক্তিদের অনেকেই ভাল চাকরি বা বিয়ের মিথ্যা আশ্বাসের প্রলোভন বা প্রবঞ্চনায় পড়ে। কাউকে কাউকে অপহরণ করে কিংবা জোর বা বল প্রয়োগ করে অথবা ভীতি প্রদর্শন করে পাচার/ কেনা-বেচা করা হয়, অথবা ঋণ দাস হিসেবে ব্যবহার করা হয়। নারী ও কিছু শিশু পাচার হয় তাদের অভাবগ্রস্ত পরিবারের নিরব সম্মতিতে” (জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১২)।

This Post Has 0 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *